সালামুন আলাইকুম।
সৎকর্ম আর অসৎকর্মের পার্থক্য যারা বুঝতে পারে না, তাদের কাছে পুরো কোরআন বা হাজার বই-পুস্তকও কোনো ফল আনতে পারে না।
কারণ আল্লাহ মানুষকে এমন বোধশক্তি দিয়েছেন, যাতে সে নিজের অন্তরের কণ্ঠে সৎ ও অসৎকে চিনতে পারে। কিন্তু যারা নিজের আত্মাকে কলুষিত করে রাখে, তারা শিক্ষা নয়, বরং আত্মপ্রবঞ্চনার পথেই থাকে।
আল্লাহ বলেন:
“মানুষকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করা হয়েছে।” “যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, সে-ই সফল।” “আর যে নিজেকে কলুষিত করে, সে-ই ব্যর্থ।” ৯১: ৮-১০।
অথচ মানুষ নিজের আত্মার এই সত্যকণ্ঠকে উপেক্ষা করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকেই মূল ধর্ম ভেবে বসে।
কেউ মনে করে শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাযই মুক্তির নিশ্চয়তা, অথচ কোরআন বারবার বলেছে—সাফল্য তাদের জন্য যারা আত্মাকে শুদ্ধ রাখে, কর্মে ন্যায়পরায়ণ হয়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পরবর্তী যুগে বহু বর্ণনাকারী আল্লাহর বাণীর সঙ্গে অমিল গল্প ও উপমা প্রচার করেছেন। এর ফলে কোরআনের মূল বার্তা—মানুষের আত্মিক উন্নয়ন ও নৈতিক জাগরণ—ঢেকে গেছে আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচার-অনুশাসনের নিচে।